বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪

ঘুড়ি


লালনীল ঘুড়ি ছেড়েছে জমিন
              ডানায় জেগেছে বেগ,
নতুন ঠিকানা তার আকাশআঙিনা জুড়ে
             ক্ষণে ক্ষণে বাড়ে মেঘ !

উড়ালউচ্ছ্বাসে ডিগবাজি খেয়ে
                    বিহঙ্গপাখায় নাচে
মেঘের ওপরে মেঘে
উলকাআবেগে ছোটে নীলিমার কাছে কাছে;

নতুন আকাশ নাচে বুকের ভেতর                 
                         গোপনে একান্তে,
ঘুড়িটি ছেড়েছে ঘর কেটেছে সাকিনসুতো
মনের অজান্তে !   



১৭.০৭.২০১৪ ইং   

মেঘবোন


মধ্যাহ্নের মেঘবোন আকাশকে ছুঁয়ে দিলে সবুজ গ্রামের সারি
নীলাভ নদীর ঢেউ সামিয়ানা কাঁপে;

সমুদ্রসারস উড়ে নিজেকে হারায়- গাঙকবুতর ভুলে ভাসমান বয়া;

জল নয়, ছায়া নয়-বিবাগী বাউল তুমি শুধু ভেসে চলা;
যদিও মুহুরি নদী তোমার মতন ছুটে মোহনা মায়ায় বিদিত সাকিন তার ;
মৈনাক আকুল হয়ে বাড়ায় দুহাত তোমার প্রণয় যাচে ঘন বরষার ভোরে।

এই সব জেনে শুনে নীলিমা ছেড়েছে ঘর-নিতম্বে পলাশ ফোটে;

আধাঁর মাড়িয়ে আজো দাঁড়িয়ে রয়েছি-ইটভাটার চিমনি;
ধোঁয়ার শরীর আর আগুন কুন্ডলি ভুলে মঙ্গলমায়ায়, নীল মেঘফুলে।

মরীচিকা

রুপোর দরিয়া জোছনা মোহনায়
ভুরুর দ্রাঘিমা চোখের দু’পাতায়
- তোমাকে এঁকেছি ।

পাতিয়া দুই হাত দূরের জানালায়
রাখিয়া দুই ঠোঁট জোছনা পেয়ালায়
- তোমাকে বুনেছি ।

ভ্রমে আর ঘামে বালির মূরতি
যতনে এঁকেছি
 - তোমাকে খুঁজেছি ।

তুমি যে তুমি নয়- মায়া আর মরীচিকা,
অনিকেত প্রাণে এক ক্লান্ত পিপীলিকা;
                      - কেন যে ছুটেছি !


১৩.০৫.১৪
চট্টগ্রাম।



নাম


ডেকেছে  কলেমা - নীলমেঘ পাখি- রাতের আড়ালে, আবড়ালে জেগে
রেখেছো কি মনে ধূসর আকাশ - মার্বেল চোখ?

চোখের পেয়ালা জুড়ে যাকে এঁেক যাও - মেঘের আলোক মালায় রোজ খুঁজে যাও,
কখন সে সমুখে দাঁড়ায় দেখেও দেখো না -
তিরতির কাঁপে তবু ঠোঁটের যুগল নাও -সফেদ স্বেদের তসবিহ দানা নিমেষে চিবুকডাঙায়।

অথচ অচিন আমি- বেগানা পুরুষ নয়, নয় কোন আজনবি-আগন্তুক
হঠাৎ আমাকে দেখে নেচে ওঠে নীরব নাকফুল;
তোমার দুচোখ চেনে, তোমার  দুঠোঁট  চেনে - জানে বোঝে কপোলের বিন্দুবিন্দু ঘাম।
আঁখির ত্রিভুজ কোণে নিঃসঙ্গ রাতের খামে এখনো তো জেগে আছে আকাশের নাম!

জোছনাগজল

  

জিয়ল মাগুর মাছ কানা ঘাই মারে মাটির পাতিল ফুঁড়ে তারা বুদবুদ, তোমার কপোল তলে জেগে থাকে কোজাগরি চাঁদ -
চোখের ডানায় নেচে নেচে নেমে আসে ঢেউভাঙা  মুহুরির যুগল সাম্পান।

সহসা ভুলে যেতে থাকি - ঈশ্বরের চোখ, আক্রান্ত গজল, অভিশ্রুতি অপিনিহিতি।

বিশ্বাসের  বিষফল অকপটে খেয়ে নেচে নেচে গেয়ে যাই জোছনাগজল।

অচিন ময়নাপাখি, অদেখা ঈশ্বরী ডানা মেলে ছোটো - নক্ষত্রে বিলীন।
ভুল ভালো বাসার রঙসুর মেখে গড়ে খেলাঘর
আঠোরো পাঁপড়ি রাঙে নীল মেঘগাঙে, রাত জেগে গেয়ে যাই উর্ঘুম উলুকের গান।