শীতের রাতে বেজে ওঠে রুপোলি নূপুর- রাখালবালক যায়,
বাঁশপাতাবাঁশি লোকজ কবির গান; তরুণ সুপুরিপাতা স্বরলিপি তুলে সবুজ বাতাসে;
হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় রাহেলাবুবু- অপয়া কাকের কা-কা ডাকে প্রবাসী শহুরে সোয়ামিরে মনে পড়ে,
প্রথম রাতের শপথ-সোনাদানা মুক্তোমানিকে ভরিয়ে দেবো তোমার জিসম,
লালনীল ডুরে শাড়িতে পুরে যাবে দেরাজ সিন্দুক,
হাদিয়া পাঠাবো ঈদে কুরবানিতে তোমার বাপের বাড়ি- জোছনার ঢেউ নেমে আসবে তোমার বদনে,
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে
বেতবোনা মোড়ায় বসে তালপাতা হাতে দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে ওঠে নিকানো উঠোন,
আর কত দিন এভাবে যাবে রাহেলা বুবু,
খতিব ইমাম মানুষ- বর্ষা যায়, গ্রীষ্ম যায়, বসন্ত আসে- উনিতো আসে না,
মিলাদে মহফিলে যায় সাগরেদ মুরিদ অনেক, গলিতে গলিতে হাঁটে তাবিজ কবজ দেয়,
দোয়া দরুদ পড়ে- তশবিহ তাহলিল জানে
মাঝে মাঝে অন্যকে দিয়ে লিখিয়ে পাঠায় দুএকছত্র কুফুরি কালাম- বাংলা জানে না,
কখনো পড়েনি অবলার মন -খয়েরি রুমালে আলপনা এঁকে এঁকে কত দিন কাটে,
বিধবা বোনের স্নেহ, চিড়ে মুড়ি খই, কাউন ধানের ঘ্রাণে পোড়া লাগে,
অরণ্য নিষাদ রাখাল বালক যায়-
বাঁশপাতা বাজে ভুলো বাউলের সুরে আনমনা হয় নীলাভ প্রহর;
গুলতির চোটে পাখ ঝাপটায় ধূসরশালিক,
ধূসরশালিক রাহেলাবুবু ... ... ...।
তটিনী তেরসা নদী-
করে বার বার ভুল,
ভাঙ্গে কুল - রাখে খোলা আলুথালু চুল,
টিকালো নাকের ভাঁজে জ্বেলেছে মুক্তোর দীপ - শ্বেত নাকফুল।
তটিনী মানে না ব্যাকরণ
শুধু অকারণ কবিতা ও কথা লিখে,
চিকন নধর দেহ সুপুরি গাছের মতো একহারা লিকলিকে।
তটিনী মেলছে ডানা
হৃদয়ে বাঁধছে দানা রমণের বিষ,
উড়ু উড়ু মন যখন তখন বাজে মুঠোফোন অহর্নিশ।
সাজছে প্রথম নারী-
তটিনী পরছে শাড়ি, বাড়ি বাড়ি পই পই করে ফিরে,
রঙের বারতা মেখে ছুটছে সে এঁকেবেঁকে নোঙর বসাবে বুঝি শবরের তিরে।
তটিনী উতলা বেশ
খুলছে হৃদয়দেশ - যাদুর সকল জানালা কপাট,
জাত মান ভুলে চড়বে রতির শূলে তালিম নেবে সে প্রেম-প্রণয়ের পাঠ।
২০১২ ইং
মহেশখালি।
কত না ডেকেছো তুমি―বাবুজি বাবুজি ওঠো ; কেঁপেছে তোমার সুর লীলা আর লাজে নিঃসঙ্গ ঘুঘুর মত দেখেছি ভেবেছি আমি―সটান পিঠের পর শুয়ে শুয়ে কত না দীঘল রাত; মোরগ ডেকেছে ভোরে ―
দুটি পাখা পত পত করে―ওই সুরে ওই স্বরে ; দুইপায়ে হলুদআঙুল নখের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কঁকিয়ে কত না দেখেছি আমি বধির ব্যাকুল,তোমাদের এই ডাক সবুজ বাতাস কাঁপিয়েছে ধানখেত দিগন্তের টানে ; তোমরা কি ভুলে গেছো―আজন্ম বধির আমি; কান জোড়া যদিও বিশাল ভগবান বুদ্ধের মত।
সংসার সঙসার―তবুও কিষান বধূ শুঁকে যায় মেঘের ঘ্রাণ ; সোনার নোলক হাসে নাকের উঠোনে,
নীল জলে নীল মেঘে যমুনা তেরচা ছুটে; কায়া আর মায়া জুড়ে নিপাট সন্ন্যাস।
দৈনিক সংবাদ ঈদসংখ্যা-২০১৩-তে প্রকাশিত।