ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি তখনো তোমার মুখ-নাক
লোমশ কঠিন বুকের খাদে বুনোঘাসে লাল কাঁকড়ার মতো হাঁটে;
এই আমি বেমালুম তোমাকে ভুলে দেখি অন্য নারী―খুঁজি অন্য নদী, অন্য সিঁথির ঢেউ;
হাওয়াই মিঠাই যেন ষোড়শীর ঠোঁট নিমিষে মিলায় স্বপ্নের ভেতর মাতাল মুগ্ধতায়;
কৈশোরের নাফ নদী আবার আমাকে ডাকে, এঁকে যাই উথাল মোহনার মুখ-কোহালিয়া চর।
ঘুম ভাঙ্গে―আয়নায় জেগে ওঠে অচেনা আপন মুখ বেদনায় বিব্রত,
নিজেকে গোপন করি―ভুলে যেতে চাই অসমাপ্ত চুম্বনজ্বর;
ঢেকে রেখে ভেজা বিছানা-মৃত প্রজাপ্রতি নিজেকে নির্ভার করি;
অচেনা আমরা ঘুমিয়েছি দিনরাত্রির ডানায় অলীক মায়ায় ঘোরের ভেতর;
আঠারো বছর শেষ―ঘরোয়া ঘুমের মাঝে বিমূঢ় বেদনাকে দেখি; নতুন এক চিত্রকল্প আঁকি।
বুকের হাঁসুলি চাঁদ- থামির অরণ্যে মইনাক পাহাড়,
চুলির আড়ালে হাসে যমজ উড়িয়া আম;
আমলকি চোখ সুস্থির তির-
অঝোর আষাঢ়ে ছড়ায় ময়ূর পেখম,
আদিম মুদ্রায় কাঁপে রাখাইন তরুণ,
ম্যাহ্লানু, বনের ফুল- জলজ সুড়ঙ্গ চুলো পুড়ে জলটাকিমাছ।
সাকিন জানি না ঠিক কোন দিকে যাব―উত্তরে দক্ষিণে পূর্বে বা পশ্চিমে;
অবোধ শিশুর মতো হামাগুড়ি দিই―নীল জোছনার জলে হেমন্তে বসন্তে
কখনো দাঁড়িয়ে থাকি―গ্রীষ্মের দুপুরে পোড়া ট্রাফিক পুলিশ।
সবুজ ঘাসের জমি বসন্ত বাতাসে ছুটে চপল হরিণী― দূরে যেতে থাকি,
ভুলে যেতে থাকি অনায়াশে; নিশীথের নীল নৌকো খুঁজে সোনাদিয়া মাটি,
চকচকে গাড়ি লকলকে জিভে আমাকে তাড়ায়;
কালোমেঘ উড়ে গোধুলির খামে―প্রণয়ে পতন ঘটে।
বাবা হই, মাতা হই―সন্তানের রঙেগন্ধে কখনো তোমাকে খুঁজে
দিকভ্রান্ত নাবিকের মত ডেকে ওঠি মা, মা আমার;
ঈশানে বিজলি জ্বলে হিরোশিমা কাঁদে―বিষণ্ন বদ্বীপে নারগিস আসে, মহাসেন কাঁপে;
তোমার যুগল হাত কখনো সরে না, তোমার কোমল বুক কখনো সরে না, মা, মা আমার।
সুন্দরম ১৬বর্ষ প্রথম সংখ্যা বৈশাখ-আষাঢ় ১৪২১ বঙ্গাব্দ